Home Entertainment বাংলা ছবিও বাণিজ্য সফল হয়,হলে ফিরতেই হয় – করে দেখালেন যারা

বাংলা ছবিও বাণিজ্য সফল হয়,হলে ফিরতেই হয় – করে দেখালেন যারা

by admin

দেখতে ছোটখাটো আর পাঁচটা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের মতই  জীবনযাত্রা।  স্কুল পেরিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা শুরু। পড়াশোনার বিষয় ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান। বইয়ের পাতায় পলিটিক্স পড়তে পড়তে হঠাৎ কী যে হল!  জীবনের রাজনীতি,  মানবমনের রসায়ন এই সমস্ত কিছু নিয়ে যদি কিছু কাজ করা যায়!  শুরু করলেন অভিনয়। মাঝে অবশ্য সঞ্চালনাও করেছেন৷  যখন অভিনয় করেছেন তখন যে একেবারে শুরু থেকেই হিরো হয়ে উঠেছিলেন তা নয়, ছোট চরিত্র, কিন্তু সেই ছোট চরিত্রেই তিনি তার মুন্সিয়ানার ছাপ রেখে গিয়েছিলেন।  যার কথা বলছি তিনি আর কেউ নন এই সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।  যদিও পরিচালক হিসেবে দর্শকাসনে পরিচিত শিবু নন্দিতা নামে৷ কারণ তিনি একা নন, বরাবর নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জুটি বেঁধে একের পর এক জনপ্রিয় বাংলা ছবি পরিচালনা করছেন।

যদিও জনপ্রিয় কথাটা এখানে একটু ভুল বলা হল, এই সময়ের বাংলা সিনেমার বিষয়বস্তু থেকে গতিপথ সবকিছুই যারা বেশ কিছুটা বদলে ফেলেছেন।  হবে নাই বা কেন অভিনয় করেছেন দহন বাড়িওয়ালি এই সমস্ত সিনেমায়।  বাংলা সিনেমাকে সাবালক করেছিলেন যে মানুষ, পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ এর  ছবিতে অভিনয় করে যার পথ চলা শুরু তিনি যখন সিনেমা বানাবেন তখন পারিবারিক গল্প মা ছেলে সম্পর্কের মধ্যেও থাকবে অন্য মাত্রা সেটাই বলা বাহুল্য।

 

Shiboprosad Mukherjee - Wikipedia

তার একের পর এক ছবিতে আমরা দেখেছি অত্যন্ত কাছের সম্পর্ক, প্রচলিত ভাবধারা কিভাবে চকিতে বদলে যায়।  প্রথম পরিচালিত ছবি “ইচ্ছে ” মা ছেলের জীবনের গল্প বলে।  যে মা ছোট থেকে তার ছেলেকে বড় করে তুলেছে একদিন সেই ছেলেই হয়ে গেল মায়ের কাছে একেবারে অচেনা।  দুজনে দুজনের চাওয়া পাওয়া সমান্তরাল রেখা হাঁটতে শুরু করল।  যেখানে মিল হয় না কারও।

 

Celebrity Interview: Shiboprosad Mukhopadhyay rolls out the plans of  Windows for 2021 - Telegraph India

 

মুক্তধারা সমাজের বন্দি মানুষদের মুক্তির কথা বলে।  যাদেরকে আমরা আদতে ঘৃণার চোখে দেখি যাদের থেকে ভালো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা এই সমাজের কারো কখনো থাকে না, তাদেরকে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনলে সেই সমস্ত মানুষ ও সমাজকে শুভ কিছু উপহার দিতে পারে।  আমাদের চিন্তার বন্ধন মুক্তির কথা বলল মুক্তধারা।  আমরা সকলেই সুখী হতে চাই।  কিন্তু আসল সুখ কী? অর্থ এবং ঐশ্বর্য্যের প্রাচুর্যই কি সুখ নাকি দিনের শেষে মানসিকভাবে হাসিখুশি থাকা?   প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল অলীক সুখ।  প্রতিবেশীর সঙ্গে টেক্কা দিয়ে সুখী হওয়ার ভালো থাকার অভিনয় করতে করতে কখন যেন জীবনের চোরাস্রোতে ডুবতে বসেছিল, সেই অধঃপতনের মুখে দাঁড়িয়ে আরো একবার জানো প্রশ্ন করল অলীক সুখ।

এবার মানুষকে ভাল রাখতে এগিয়ে এল টিম “বন্ধু আছি

সন্তানকে সেরা সেরা করে করে তুলতে ইঁদুর দৌড়ে নামিয়ে দিই আমরা,  কিন্তু হারিয়ে যায় তার ছেলেবেলা।  তার জীবনের সাত রং রামধনু। এই করতে করতে জীবন অতিবাহিত হয়। বেলাশেষে  প্রশ্ন করে সংসার কি আদতেই প্রেমের নামান্তর?  বছরের-পর-বছর যে মানুষটিকে জীবনসঙ্গী পরিচয় দিয়ে এসেছে তাকে কি আদতেই ভালবাসতে পেরেছি? কখও বা প্রাক্তন প্রেম আচমকা উঁকি দিয়ে যায় একসঙ্গে ঘর বাঁধা, সেই ঘর ভাঙা, আর তারপর তুমি অন্য কারোর সঙ্গে বেঁধো ঘর এই কথা মনে মনে বললেও মুখে বলা যায় না।  অথচ বাস্তবে যখন তাকে দেখা যায় অন্য কারোর সঙ্গে ঘর বেঁধে সে খুশি তখন কোথাও যেন পুরনো সম্পর্কের পিছুটান চোখের কোণে  চিকচিক করে ওঠে।

Blockbuster team - Telegraph India

এমনই সব আপাত সাধারণ বিষয় অসাধারণ হয়ে উঠেছে যার পরিচালনায় তিনি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।  বাঙালি দর্শককে  যিনি করেছেন হলমুখী৷  90 দশকের বাংলা সিনেমা আপাত অবাস্তবতা থেকে মুক্তি দিয়ে আর্ট ফিল্ম এবং বাণিজ্যিক ছবি এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান ঘুচিয়ে দিয়ে তথাকথিত শিক্ষিত এবং মধ্যবিত্ত সাধারণ বাঙালি উভয়কেই বাংলা সিনেমা হলে গিয়ে দেখতে বাধ্য করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাই বাংলা ছবি শ্রেষ্ঠ বাণিজ্যিক সাফল্যের তালিকায় নাম নথিভুক্ত করে এখন৷

Related Videos

Leave a Comment