Home Entertainment পজিটিভ থাকার সমস্ত চাবিকাঠি কিন্তু থাকে আমাদের হাতেই… গৌরব সরকার

পজিটিভ থাকার সমস্ত চাবিকাঠি কিন্তু থাকে আমাদের হাতেই… গৌরব সরকার

by admin

এইরকম সময় বলেই কি প্রার্থনা সঙ্গীত আরো বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেছেন?

খুব প্ল্যান করে যে বিষয়টা ঘটেছে তা একেবারেই নয়। গানের যিনি সুরকার সৈনিক দে তিনি পরিচিত। সৈনিকদার কথাতেই গানটা শোনা এবং ভালো লাগা। এরপর সৈনিকদার ইচ্ছা হয় আমার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে রিলিজ করা হোক গানটি। Pray to God Almighty সবসময়ের জন্যই একটা বড় বিষয় বলে আমার মনে হয়। এই টালমাটাল সময়ে দাঁড়িয়ে তাই এই প্রার্থনা আরো বেশি প্রাসঙ্গিক। এরপর আসে ভিডিওর ভাবনা। এই সময়ে বাইরে বড় টিম নিয়ে কাজ করা খুবই অসুবিধার , সে লকডাউনের জন্যই হোক বা পরিস্থিতির জন্য। তাই animation এর কথা ভাবা। তিন কলেজ পড়ুয়া অয়নদীপ, অর্ঘ্যদীপ আর বিশাল ওরা মিলে কাজটা করে। এভাবেই আমরা প্রেসেন্টেবল করার চেষ্টা করেছি গোটা ব্যাপারটা।

 

ভোটের সময় আমরা দেখেছি ধর্মকে নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক তৈরি হতে, নানান রকম কথা হতে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আপনার এই গান সুফি ভাবনা তুলে ধরছে, সম্প্রীতির কথা বলতে চাওয়াটা কি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল প্রথম থেকেই?

দেখো, ধর্ম ব্যাপারটা আমার কাছে খুব পরিষ্কার ছোটবেলা থেকেই। আমি যে পরিবেশে বড় হয়েছি আমার আশেপাশের জায়গা অথবা স্কুল সব জায়গাতেই ধর্মের দিক থেকে প্রচুর বৈচিত্র্য ছিল। আমার নিজের বিদেশী বন্ধু, সাউথ ইন্ডিয়ান বন্ধু আছে, খ্রিস্টান বন্ধু, শিখ বন্ধু , মুসলিম বন্ধু সবাই আছে। আমরা একসাথে খেলতে খেলতে বড় হয়ে উঠেছে। ধর্ম মনে তাই আমার কাছে মানুষের পাশে থাকা। আমাকে তাই আলাদা করে ধর্ম নিয়ে ভাবতে হয়নি। তুমি যদি এই সময়েও দেখো তাহলে দেখবে প্রচুর মানুষ কোভিড পরিস্থিতিতে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন , একে অপরকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। সে সময় কিন্তু কেউ ধর্ম দেখেননি। শুধু জানতেন তারা মানুষ। আমরা তাই এই ভিডিওকে খুব ধর্মের মোড়কে বেঁধে কোন বক্তব্য জানাতে এসেছি সেটা ভেবে একদমই করা নয়। আমাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী সুফি গান সাধারণত দরগা বা মসজিদ এ হয়। সেই পরিবেশ ধরতে চেয়েছি। অবশ্যই গানের চিত্রায়ণের প্রয়োজনে সেখানে সাধারণ মানুষ, ডাক্তার সবাইকেই দেখিয়েছি আমরা। যদি কোন মানুষ এর থেকে ভালো কোন মেসেজ পান তাহলে সেটা ভালো লাগবে আমাদেরও, কিন্তু সেই কথা আলাদা করে মাথায় রেখে ভিডিও বানানো একেবারেই নয়।

কোভিডের কথা যখন এলোই তখন সেই প্রসঙ্গেই একটা প্রশ্ন। কিছুদিন আগেই আপনাকে সবুজ সঙ্গীর তরফ থেকে কোভিড যোদ্ধা সম্মান দেওয়া হয়েছে, সেটার অভিজ্ঞতা কেমন?

এটা অবশ্যই খুব ভালো একটা অভিজ্ঞতা। বেঙ্গল ওয়েব সলিউশনের তরফে খবরটা প্রথমে পেয়ে খুবই খুশি হয়েছিলাম। আমি শিল্পী,গানবাজনা নিয়ে থাকি। কিন্তু মানুষের বিপদ দেখলে আমার সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করি। আমার ক্ষুদ্র পরিসরে যে কাজ আমি করেছি সেটা যে মানুষ এর কাছে পৌঁছেছে তাতেই আমি খুব খুশি। আমার এই মানুষের  পাশে দাঁড়ানোর এই ইচ্ছেটুকু যে recognition পেলো সেটা একটা বড় পাওনা। সাথে এমন কিছু মানুষের সাথে পরিচয়ও হলো যারা কাজ করছেন এই পরিস্থিতিতে এবং আরো অনেক প্ল্যান আছে তাদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। তাদের সঙ্গে একটা সন্ধ্যে কাটানো সত্যিই খুব বড় আনন্দের একটা জায়গা নিয়ে আসে। আর আমার মনে হয় এই মানুষগুলো যত পরিচিতি পাবেন ততই আরো অনেক মানুষ এগিয়ে আসবেন এই অসময়ে। আর আমরা বেশির ভাগ সময়ই প্রশাসনের ঘাড়ে হয়তো দোষ চাপিয়ে দিই, প্রশাসন ঠিকঠাক কাজ করছে না বলে কিন্তু সেটা বোধহয় উচিত নয়। তারা নিজেদের মত চেষ্টা করছেন। সাথে যদি আমরাও এগিয়ে আসতে পারি তাহলে কোন বড় ঝড় বা বিপদই আমাদের রাস্তা আটকাতে পারবে না।

 

 

আরো পড়ুন – 

দ্বিজেন্দ্রলালের জন্মদিনে আসছে “হৃদয়ের আলো”

 

 

লকডাউনে সবাই গৃহবন্দী। হাঁসফাঁস অবস্থা। সেসময় নিজেকে পজিটিভ রাখতেন কিভাবে?

লকডাউনের বেশিরভাগ সময়টাই কাজ করে কেটেছে আমার। যেহেতু আমার বাড়িতেই স্টুডিও সেট আপ আছে সেজন্য বাড়ি থেকেই  গান রেকর্ড করে পাঠানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো। সুবিধা ছিল নিজের মর্জি মত কাজ করার কিন্তু যেহেতু সবটাই নিজেকে করতে হত তাই কাজও ছিল অনেক। তাই ব্যস্ততা ছিল। তবে বই পড়ে, সিনেমা দেখে, ওয়েব সিরিজ দেখে, আড্ডা মেরেও কাটিয়েছি অনেকটা সময়। বাড়িতেও সময় দেওয়া গেছে অনেকটা যেটা এমনি সময় হয় না। আমার মনে হয় পজিটিভ থাকার সমস্ত চাবিকাঠি আমাদের কাছেই থাকে। তাই চাইলেই আমরা দিব্যি পজিটিভ থাকতে পারি।

বই পড়েছেন এই সময়ে বললেন। কি ধরণের বই আপনার পছন্দ ?

আমি নিজের মর্জি মত পড়তে ভালোবাসি। রবীন্দ্রনাথের ‘গল্পগুচ্ছ’ পড়ছিলাম। হুমায়ুন আহমেদের ‘হিমু’ কে নিয়ে কিছু লেখা পড়েছি। শ্রীজাতদার লেখা , চন্দ্রিলদার লেখা , সুধীর চক্রবর্তীর বাংলা গান নিয়ে বেশ কিছু লেখা এরকমই নানান বই নিয়ে ছিলাম।

এই যে অস্থির সময়টা, মানুষকে কি অনেক কিছু শিখিয়েছে বলে তোমার মনে হয়?

নিশ্চয়ই। মানুষ অনেক বেশি স্বাবলম্বী হয়েছে। নিজেকে দিয়েই বলা যায়। এই যে আমি বাড়িতে থেকে রেকর্ডিং করে পাঠিয়ে দিচ্ছিলাম, এটা কি স্বাভাবিক অবস্থায় করতাম আমি? একেবারেই নয়। ঠিক তেমনি মানুষ অনেক কিছু শিখছে। রান্না শিখছে, মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট শিখছে। আর সবচেয়ে বেশি শিখছে বোধহয় সহনশীলতা। যে যে  জিনিসগুলো আগে খুব প্রয়োজনীয় মনে হত, সেগুলো ছাড়াও বেঁচে থাকা যায়। সেটা শিখছে মানুষ। সিনেমাহলের অভাব মিটিয়ে নিচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। আরো নানা কাজ যা সে করতো সব এরই বিকল্প খুঁজে নিয়েছে। তবে এই দুটো বছরের যদি কোনদিন ইতিহাস লেখা হয় তাহলে সেটা শুধুই মানুষের ইতিহাস হবে। এত মানুষ নিঃস্বার্থ ভাবে অন্য মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, ভাবাই যায় না।

 

 

নতুন যা যা কাজ চলছে সেই নিয়ে যদি ফ্যানদের কিছু বলেন

বাংলা আধুনিক গান নিয়ে প্রচুর কাজ তো করতেই থাকি আমি। সেই কাজ গুলো যখন রিলিজের সময় আসবে আস্তে আস্তে জানা যাবে। অরিজিনাল হিন্দি গান নিয়েও কাজ করছি। খুব শিগগিরই জানাতে পারবো হয়তো। নজরুলগীতির উপর কাজ চলছে। পঞ্চকবির গান নিয়ে কাজ করছি। পুজোর সময় একটা রবীন্দ্রসংগীতের album আসতে চলেছে আমার। বাংলা আধুনিক গান এর একটা album নিয়ে বড় মাপের কাজ চলছে। লকডাউন এবং অন্যান্য কারণে সেটা বেরোতে বেরোতে হয়তো পরের বছর হয়ে যাবে। সেখানে শ্রীজাতদার লেখা আছে, জয়দা , রণজিৎ দার সুর করা গান আছে।আমার গুরু গৌতম ঘোষালের সুর করা গান আছে। শ্রীকান্ত আচার্যের ছেলে পুরব আর প্রতীক চৌধুরীর ছেলে দীপরাজ এর কাজ আছে। ওটাই প্রথম গান যেটা রেকর্ডও হয়ে গেছে। এভাবেই একটা বড় প্ল্যানিং এ কাজ করছি আমরা তাই অনেকটা সময় লাগছে। আমার সুরে আমার এবং অবন্তীর একটা ডুয়েট গান আসতে চলেছে। এরকম নানা কাজে চলতেই  থাকে সারা বছর জুড়েই।

একসময় শুধুমাত্র অডিও শুনতে পেতেন লোকে। এখন ভিডিও গানের ক্ষেত্রে অনেকটাই বড় ভূমিকা নিচ্ছে। সেটা কি শোনার ক্ষেত্রে বদল ঘটাচ্ছে কোন? আপনার কি মত?

সংগীত তো একটা চলমান সভ্যতা।তাই কালের নিয়মে সেটাও নিজের মত করে evolve করেছে। এখন অবশ্যই কোন গানের অডিও ছাড়াও ভিডিও নিয়েও আমাদের বেশ ভাবতে হয়। কিন্তু বর্তমানে এমন অনেক অডিও প্ল্যাটফর্মও আছে যেখানে মানুষ শুধু শোনেন। তাই শোনার অভ্যেস একেবারেই চলে গেছে আমরা বলতে পারি না। পরবর্তী সময়ে এরকমও হতে পারে শুধুমাত্র শোনার জন্যই একটা গান বানালাম আমরা এবং মানুষ শুনে নিজের মতো করে ভেবে নিলেন দৃশ্য কিরকম হতে পারে। যেটা হয়তো ভিডিও দেখলে পারতেন না। তাই ভিডিওকে  অস্বীকার না করেও বলা যায় অডিওর একটা আলাদা গুরুত্ব আছে তবে অবশ্যই এই সময়ে দাঁড়িয়ে একটা ভালো ভিডিও বানাতেই হয়ে থাকে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো পাল্টে যেতেই পারে সে সমীকরণ…

Related Videos

Leave a Comment