Home যেসব কথা কানে আসে বছরভর শবররা পুজো করেন দুর্গার কিন্তু বছরে চারদিন নেই তাদের অধিকার

বছরভর শবররা পুজো করেন দুর্গার কিন্তু বছরে চারদিন নেই তাদের অধিকার

by admin

নাম তার গুপ্তমণি৷ নাম শুনে নিশ্চয় মনে হচ্ছে সাধারণ মানুষের নাম৷ কিন্তু না, এ এক দেবীর নাম৷ এক সময় গুপ্ত অবস্থা থেকে প্রকাশ্যে এসেছিলেন বলেই দেবীর নাম ‘মা গুপ্তমণি’। জঙ্গলমহলের দেবী হলেও বাংলা ও ওড়িশা ছাড়িয়ে দক্ষিণভারত পর্যন্ত বিস্তৃত তার মহিমা। শবরদের আরাধ্য দেবী গুপ্তমণি৷   লোকায়ত ধারায় পুজো করেন শবর সম্প্রদায়ের ‘দেহুরি’ অর্থাৎ পূজারী৷

 

Guptomoni Durga Modndir || Paschim Medinipur || Jhargram || - YouTube

খড়্গপুরের গ্রামীণ এলাকার সীমানা ঘেঁষে, ঝাড়্গ্রামের মধ্য দিয়ে  চলে গিয়েছে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক মুম্বই রোড। দেবীস্থান লক্ষ্য করে এক টাকা, দু’টাকা কিংবা পাঁচ টাকার খুচরো ছুড়ে যান পথচারীরা৷  জনশ্রুতি, প্রায় দেড়শো বছর আগে আনুমানিক ১২৭২ বঙ্গাব্দে ঝাড়গ্রামে মল্লদেব রাজা রঘুনাথ মল্ল-উগাল-ষণ্ডদেব এর আমল৷  কথিত আছে,  রাজার প্রিয় হাতি ‘গজপতি’ নিখোঁজ হয়ে যায়৷ রাজার সৈন্যসামন্তরা ছুটল কিন্তু গজপতিকে খুঁজে পাওয়া গেল না। তারপর রাজা স্বপ্নে দেখলেন, এক কিশোরী জানাচ্ছে শুকনিবাসার গভীর জঙ্গলের মাঝে গজপতিকে পাওয়া যাবে।

 

Maa Guptamani Temple - YouTube

পরদিন সসৈন্যে শুকনিবাসা  গজপতিকে পান  রাজা। জনশ্রুতি, সেই রাতেই শুকনিবাসা গ্রামে শবর সম্প্রদায়ের নন্দ ভক্তাকে দেবী স্বপ্নে আদেশ করেন।  জানান, তিনি জঙ্গলের মাটির তলায় গুপ্ত-অবস্থানে রয়েছেন। তিনি নিত্যপুজো পেতে চান। একটি মরা কারিগাছের তলায় মাটি খুঁড়ে প্রস্তর কুণ্ডে শিলাময়ী দেবীকে খুঁজে পান নন্দ। বুনো ফল আর ফুল দিয়ে সেখানেই দেবীকে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। গুপ্ত অবস্থায় ছিলেন তাই নাম  ‘মা গুপ্তমণি’। রাজার হস্তক্ষেপে জঙ্গল পরিষ্কার করে গুপ্তমণির মন্দিরও তৈরি হয়। নন্দ ভক্তাকে মন্দিরের দেহুরি ও সেবাইত নিযুক্ত করেন রাজা।

 

গুপ্তমনির মন্দিরে আজও রীতি মেনে পুজো করেন শবর, লোধারা - Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper

সেই থেকে নন্দর উত্তরসুরি শবররা পুরুষানুক্রমে এই মন্দিরের দেহুরি ও সেবাইয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯টি শবর পরিবার ভাগ করে সারা বছর পুজোর দায়িত্ব সামলায়। কিন্তু শারদীয় দুর্গাপুজোর সময় নিয়ম অন্য৷ দুর্গাপুজোর চার দিনের শাস্ত্রীয় আচারে  অধিকার শুধু ব্রাক্ষণদের৷ বছরভরই কিন্তু লৌকিক মতে  দেহুরি উবু হয়ে বসে দেবীর অর্চনা করেন। দেবীর বাঁ দিকে পোড়া মাটির হাতি, ডান পাশে কার্তিক, গণেশ৷ বাঁ দিকে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর পাদপদ্ম৷ এলাকায় কোনও শুভ কাজে হাত দেওয়ার আগে দেবীর থানে পুজো দেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷

শবর জাতির অতীত ও বর্তমান

 

কিংবদন্তি আছে, দুর্গাপুজোর চারদিন লোধা-শবররা পুজো করলে নির্বংশ হয়ে যাবে৷ এই বিধান খোদ দেবীই দিয়েছিলেন কিনা তা আর জানা যায় না৷ তবে জয়চণ্ডীর পুজো নিয়ে জনশ্রুতি, কয়েক’শো বছর আগে মন্দিরের দেহুরিদের আদিপুরুষ রাম লোধা  পাথরকাটির জঙ্গলে শিকার করতে এসে ব্যর্থ হন৷ ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

ঠিক রাত ১০টা বাজলেই আবার সমুদ্রগর্ভের অতলে নিমজ্জিত হয় এই মন্দির

সেদিন পয়লা মাঘ,  ঘুমের মধ্যেই তিনি স্বপ্ন দেখেন, করম গাছটির কাছে মাটির নীচে দেবীর মূর্তি রয়েছে৷ ঘুম থেকে উঠে সেই মূর্তি তিনি খুঁ‌ড়ে বের করে জঙ্গলের ফল-মূল আর তুলসি পাতা দিয়ে পুজো করেন৷ কিন্তু রাজা এই পুজো মানতে পারেন না৷ এই ঘটনায় রুষ্ট হন দেবী৷ একদিন মন্দিরের দরজা খুলে দেখা যায়,দেবী নেই৷  ভুল বুঝে রাজা ক্ষমা চেয়ে রাম লোধার হাতে পুজোর ভার তুলে দেন৷  কিন্তু তত্‍কালীন ব্রাক্ষণ সমাজ বিধান দেয়, দুর্গাপুজোর সময়ে জয়চণ্ডীর অর্চনার ভার থাকবে কেবলমাত্র তাদেরই হাতে৷ সপ্তমীর দিনে পদ্মপুকুর থেকে পূজারি জয়চণ্ডীর ঘট নিয়ে আসেন৷ অষ্টমীতে মেষ বলি, নবমী-দশমীতে ছাগল-ভেড়া বলি দেওয়া হয়৷ দশমীতে ঘট বিসর্জনের পরে পুজোর অধিকার ফিরে পান লোধা-শবর সম্প্রদায়ের দেহুরিরা৷

Related Videos

Leave a Comment