Home Entertainment সমস্ত না এর বিপক্ষে গিয়ে যিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন, “Are You Ready?”

সমস্ত না এর বিপক্ষে গিয়ে যিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন, “Are You Ready?”

by admin

সফল ব্যক্তিদের সফলতার গল্প পড়তে তো ভালোইলাগে৷ কিন্তু সেই সফলতার পিছনের গল্পটা কজন জানতে পারে? সফল হওয়ার আগে কত পরিশ্রম কত অপেক্ষা কত ব্যর্থতার পথ পেরোতে হয়েছে? নির্ঘুম রাত উৎকণ্ঠার সেই সব দিন পেরিয়েই তো আজকের সোনালী সফর৷ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বলব তেমনি একজন নারীর কথা, যার কণ্ঠে সমগ্র বিশ্ব মেতে ওঠে৷

উষা উত্থপ একজন প্রখ্যাত ভারতীয় পপ সংগীতশিল্পী, যার কন্ঠ শ্রোতাদের উপহার দেয়  অদম্য জীবনীশক্তি। জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ কে তিনি গ্রহণ করেছেন৷ শুধু গ্রহণ করা নয়, সেই চ্যালেঞ্জ যেভাবে তিনি সামলেছেন, তা যে কোনো মানুষের চলার পথে শক্তি জোগায়৷   ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার ভয় আমাদের এতটাই চেপে বসে যে আমরা খুব কমই আমাদের কমফোর্ট জোন থেকে বেরোতে পারি৷ আমরা আসলে চেনা পরিচিত নিশ্চিন্ত জীবন চাই ৷ কিন্তু উষা উত্থুপ অন্যধারার মানুষ৷

Usha Uthup: Veteran Usha Uthup to wow audiences in the city | Kannada Movie  News - Times of India

 

তামিল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ঊষা উত্থুপ৷ তামিল ভাষায় সাবলীল ছিলেন, কিন্তু তিনি কখনোই চান নি কেবল মাতৃভাষায় গান গাইবেন৷  মাতৃভাষার পাশাপাশি তিনি অন্যান্য ভাষায় গান করতে চাইতেন৷ কিন্তু ভাষা, প্রত্যেক ভাষার নিজস্ব উচ্চারণভঙ্গি এসব আয়ত্ত করার চ্যালেঞ্জ তিনি  গ্রহণ করেছিলেন। কেরিয়ারের পুরো সময় জুড়ে, উষা উত্থুপ হিন্দি, পাঞ্জাবি, বাংলা, গুজরাটি, মারাঠি, কান্নাদ, তামিল ও তেলেগু সহ 15 টি ভারতীয় ভাষায় এবং ফরাসী, জার্মান এবং ইতালিয়ান সহ বেশ কয়েকটি বিদেশী ভাষাতে গান গেয়েছেন।

Happy Birthday Usha Uthup: Here Are Ten Interesting facts You Might Not  Know About The Singer - DesiMartini

 

 

তিনি ছাড়াও পরিবারে আরও তিন মেয়ে, তার তিন বোন রয়েছে, তারা সকলেই গায়ক এবং দুই ভাই।  তিনি কখনও প্রথাগত প্রশিক্ষণ নেন নি – আসলে, স্কুলে তাকে বলা হয়েছিল গান তার জন্য নয়৷ কারণ মেয়েদের যে স্বাভাবিক মিষ্ট কন্ঠস্বর হয়, তা ছিল না ঊষা উত্থুপের৷ কিন্তু তিনি গান গাওয়ার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তাই বাইরের কোনো নেতবাচক কথাই তিনি মানতে চান নি৷ তার কন্ঠস্বরের ভিন্নতার কারণে বহু বার প্রত্যাখাত হয়েছেন৷ তবুও তিনি থেমে থাকেননি৷ হতাশ হয়ে স্বপ্নের পথ থেকে সরে আসেননি।

আজকের প্রজন্মে বাবা মা চান না সন্তান কোনো চ্যালেঞ্জের সামনে পড়ুক৷ কিন্তু সারাক্ষণ এই ঘেরাটোপের মধ্যে থাকতে থাকতে জীবনে লড়াই করার ক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলে  এবং জীবনে যখন তারা প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়, তখন তারা হতাশাগ্রস্থ হয় এবং মনে করে যে তাদের ভবিষ্যত অন্ধকার৷ জীবন এর পথ  যতই শক্ত হোক আমাদের সঠিক পদ্ধতিতে ক্রমাগত চেষ্টা করে যাওয়া উচিত।

Usha Uthup Birthday Special Huge Transformation In Looks Unseen Pictures -  फिल्मों से पहले होटल में गाना गाया करती थीं ऊषा उत्थुप, पुरानी तस्वीरों में  पहचानना भी मुश्किल ...

 

যে সময় ঊষা উত্থুপ সংগীতের কেরিয়ারে শিখরে, বিশ্বের দরবারে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন সেই সময়টা অনেকটাই পরে৷  ঊষা উথুপের বোনরা তাকে হামির সায়ানী নামে একজন সংগীতশিল্পীর কাছে নিয়ে যান যিনি তাকে রেডিও সিলোনতে ওভাল্টিন মিউজিক আওয়ারে গান করার সুযোগ দিয়েছিলেন। প্রথমবার সুযোগ পেয়েই তিনি মাতিয়ে  দিয়েছেন এবং পরে তাকে অন্যান্য ইভেন্টেও গান করার জন্য ডাকা হয়েছিল। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি চেন্নাইয়ের একটি নাইটক্লাবে গান শুরু করেছিলেন এবং তার অভিনয়টি এতটাই প্রশংসিত হয়েছিল যে নাইটক্লাবের মালিক তাকে এক সপ্তাহের জন্য গান করার জন্য বলেছিলেন।

বছরভর শবররা পুজো করেন দুর্গার কিন্তু বছরে চারদিন নেই তাদের অধিকার

তারপরে, তিনি সারা দেশের নাইটক্লাব এবং হোটেলগুলিতে গান শুরু করেছিলেন।  এটি একটি নাইটক্লাবে তার অভিনয়ের মধ্যে একটি চলচ্চিত্রে তার গাওয়া গান  প্রশংসিত হয়েছিল এবং তার কাছে প্লেব্যাক করার প্রস্তাব এসেছিল।  সেখান থেকে, তার বলিউড কেরিয়ার শুরু হয়েছিল এবং তার প্রথম গান ‘হরে রামা হরে কৃষ্ণ’ সুপার ডুপার  হিট হয়৷ এবং তারপর কেবল ভারতে নয়, সারা বিশ্ব জুড়ে তিনি এক উজ্জ্বল তারকা৷  তাকে প্রায়শই রিয়েলিটি শো এবং বিচারক হিসাবে  আমন্ত্রণ জানানো হয়।  সংগীতের ক্ষেত্রে তাঁর দুর্দান্ত অবদানের জন্য  পদ্মশ্রী, ২০১১ সালের সেরা মহিলা প্লেব্যাক গায়কের জন্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড এবং কালাকার পুরষ্কার সহ বেশ কয়েকটি পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে।

এই খ্যাতি, এই নাম, সবকিছুর থেকে পিছন ফিরে তাকালে ছিল অজস্র লড়াই৷ সাধারণ বাড়ির মেয়ে হয়ে নআইট ক্লাবে গান গেয়েছেন৷ সমাজ এর তোয়াক্কা করেননি৷ কাজটা তার কাছে ছিল সবার আগে৷ আবার চিরাচরিত কন্ঠের অধিকারী না হওয়ার কারণে যখন একের পর এক প্রত্যাখান এসেছিল তখন সেই সব নেগেটিভ কথাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ব্যতিক্রমী কন্ঠস্বর মানেই খারাপ তা নয়৷ এই কন্ঠ দিয়েও মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়া যায়৷ ‘কিছুই অসম্ভব নয়’। একথাই উষা ঊত্থুপ প্রমাণ করেন, যখন প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছাড়াই এই দক্ষতার পরিচয় দেন৷ জীবনের ওঠা পড়াকে যদি এভাবেই আমরা স্পোর্টিংলি নিতে পারি, তাহলে হয়ত বহু হার জিতে বদলে যেতে পারে৷ বহু না পারা বহু ব্যর্থতা একদিন সফলতায় বদলে যেতে পারে৷

Related Videos

Leave a Comment