Home Entertainment পরশপাথর পেয়েও যিনি থেকে গেলেন গরীব…

পরশপাথর পেয়েও যিনি থেকে গেলেন গরীব…

by admin

মদের দোকানে বয়ের চাকরি তারপর সার্কাসের জোকার। জানোয়ারের গন্ধ সইতে না পেরে পালিয়ে আসা। অভিনয়ের জন্য ৩২ টাকা মাইনের চাকরি ছেড়ে মাসিক ৮ টাকা মাইনেতে স্টার থিয়েটার। নাটকে কখনো মোজায় চোখ একে নাগ্রা জুতো বানিয়ে ফেলা। তবলাবাদক অসুস্থ হলে তবলা বাজিয়ে দেওয়া। এরকমই করতেন তিনি।

 


আলু থালু জামা কাপড় পড়া একটি চরিত্র। বিশেষ কেতা নেই। নায়ক্সুলভ ভাব নেই। বরং দেখলে চারপাশের হরদম ঘুরে বেড়ানো মানুষগুলোর একজন মনে হয়। তাকেই ভারতের মরিস শিভ্যালিয়র ভাবতেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। কেন? সে বোঝা যায় পরশপাথর দেখলেই। উত্তম আর তরুণকুমারকে ডাকতেন ‘ছেলে’ বলে। সৌমিত্র ছিলেন আদরের সৌমিত্তির।ছবি বিশ্বাস বলেছিলেন তিনি বিদেশে জন্মালে অস্কার পেতেনই। উত্তম কুমার জানিয়েছিলেন, ”তুলসীদার মতো অভিনয় কোনওদিনই পারব না। ওনার মতো জীবন্ত হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। ওনার ঋণ শোধ করার পথ একটাই। যখনই কাজ পাই পরিচালক, প্রযোজককে বলে ওনাকে ডেকে নিই।” আশ্চর্য বিনয় ছিল ভদ্রলোকের। নিজের অভিনীত তুখোড় সব চরিত্র নিয়ে যখনই কেউ কিছু বলতো , জানাতেন আসলে আমাদের আশে পাশেই চরিত্ররা আছে। শুধু তাদের নিয়ে এসে নিজের কাঁধে বসাতে হবে। জীবনে কোনদিন বেশি পারিশ্রমিক নেননি তিনি।

১২৫ টাকা ছিল তার বরাদ্দ। চরম অর্থকষ্টের মধ্যেও পারিশ্রমিক নিয়েছেন সেই ১০০ টাকাই। উত্তর কুমার তাঁর জন্য ৩০০ টাকা পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। নেন নি তিনি। তরুণ কুমারের স্মৃতিচারণায় জানা যায়, ১৯৫৭ সালে ‘অবাক পৃথিবী’তে মুদির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তুলসী চক্রবর্তী। তাঁকে ডাকতে বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল ট্যাক্সি। কিন্তু ট্যাক্সিতে বসেননি। বরং হাওড়া থেকে ট্রামে এসেছিলেন টলিপাড়ায়। একবেলা কাজ করে ১২৫ টাকা নিয়ে বাড়ি যান। একমাত্র সত্যজিৎ কিছুতেই কম টাকায় কাজ করাতে চাননি তাকে দিয়ে। সেই সময়ে দিয়েছিলেন ১৫০০ টাকা। এখনকার প্রচারসর্বস্ব দুনিয়া দেখলে তিনি খুব হাসতেন। একবার পরশপাথর এ রাস্তায় দেখেছেন হোরডিং দেখে বলেছেন ‘এ আমি কি হনু হয়ে গেলাম!’

অথচ এই অভিনেতাকে টাকা জোগাড় করার জন্য মাঝে মধ্যে করতে হয়েছে পুরোহিতের কাজও। চিকিৎসার জন্যও দেখা গিয়েছিল অর্থ সংকট। সাহিত্যিক শংকর ‘মানব সাগর তীরে’ বইতে লিখেছেন,”যদি তুলসী চক্রবর্তী, রবি ঘোষ, নৃপতি চ্যাটার্জির মতো অভিনেতা বিদেশে জন্মাতেন, তাঁদের স্মরণে এক-একটা সরণি থাকত।” তার মৃত্যুর পর মেডেল বিক্রি করে টাকা জোগাড় করেছিলেন তার স্ত্রী।১৯৬১ সালের ১১ ডিসেম্বর ইহলোকের মায়া কাটান তিনি। ছিল না কোন শেষ শ্রদ্ধার ব্যবস্থাও। কিন্তু তিনি কোনদিন চান ও নি এরকম কিছু হোক। তাই অভিনেতা অমর হয়ে থেকে গেছেন হৃদয়ের অলিন্দে।

Related Videos

Leave a Comment