Home Entertainment রিয়েলিটি শো এর ফলাফল নিয়ে কি বলছেন শিল্পী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য?

রিয়েলিটি শো এর ফলাফল নিয়ে কি বলছেন শিল্পী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য?

by admin

কিছু শিল্পী আছেন তারা নীরবে কাজ করে যান নিজের মতন।

চারপাশের ইঁদুর দৌড়ে না থেকে ভালোবেসে করে চলেন নিজের কাজ। এরকমই একজন হলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কিছুদিন আগে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজস্ব প্রতিনিধি ফোনে কথা বলেছিলেন চন্দ্রিমার সঙ্গে। সেই মুহূর্ত ভাগ করে নিলাম আমরা আপনাদের সঙ্গে।

প্রশ্ন – ইন্ড্রাস্টিতে এত বছর ধরে কাজ করছেন। চোখের সামনে নিশ্চয়ই বদলে যেতে দেখেছেন অনেক কিছুই। কেমন সে বদল?
চন্দ্রিমা- হ্যাঁ , আসাম থেকে কলকাতায় এসেছিলাম ২০১০ -১১ সালে। আসামেই আমার বড় হয়ে ওঠা। তবে কলকাতা আমাকে ফিরিয়ে দেয়নি কোনভাবেই। মানুষ ভালোবেসেছেন। তবে একটা কথা ঠিক।

May be an image of 1 person

 

আগে একটা সময় মানুষ অনেক বেশি ভালোবেসে কাজ করতেন, এখনও করেন তবে এখন প্রফেসনালিসজম এর যুগ , তাই হয়তো একটু heartless বেশি হয়ে পড়ছেন মানুষ। সেটা আমার নিজের পছন্দ না হলেও হয়তো কালের নিজস্ব গতি, তাই সেই নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। তবে হ্যা, innocence বা নিরীহ ভাব মানুষের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এটা বড়ই দুঃখের ব্যাপার। আগে ইন্ডাস্ট্রির যেকোন খবর মানুষের কাছে অত বেশি পৌঁছত না। নেট দুনিয়ায় ডুবে না থাকার কারণে তখন এইসব খবর থেকে আমরা সবাই দূরে থাকতাম। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে মুহূর্তে যেকোন খবর চলে আসে সবার সামনে আর আমরা নিজেদের মত একটা ধারণা তৈরি করে নিই। কিন্তু এই বদলগুলো বোধহয় হওয়ারই ছিল। তাই আলাদা করে চিহ্নিত করার মানে নেই।

May be an image of 1 person

 

প্রশ্ন- অনেক বিষয় কাজ করে কাজ পাওয়ার পিছনে বলে আমরা শুনতে পাই অনেকসময়ই। সে বিষয়ে তোমার কী মত?

চন্দ্রিমা- দেখো কাজ লোকে talent এর উপর নির্ভর করেই পায়, কিন্তু শুধুমাত্র talent থাকলেই সবসময় কাজ আসবে তোমার কাছে সেটা নয়। বর্তমান সময়ে connectivity, PR ইত্যাদি জিনিসও প্রয়োজন হয়ে পড়ছে খুবই। আমি গান শিখে এসেছি এই জগতে এবং এখনো শিখছি তাই আমার মনে একটা নিজস্ব ভাবনা আছে। আমি ভালোবেসে কাজ করবো এবং নিজের মত করে প্রেসেন্ট করবো কাজটাকে এবং সেটা নিয়ে কম্প্রোমাইজ করার ইচ্ছাও নেই আমার। তাই আমার নিজের কাজ খুব বেছে করতেই পছন্দ করি আমি। যখন প্রথম আসি কলকাতায় বিখ্যাত অর্গানাইজার তোচন ঘোষ সাহায্য করছিলেন। আমার চিরকালই নিজের Branding তৈরি করার ইচ্ছে ছিল। তাই পরে সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে নিজে কাজ শুরু করি। কিছু মানুষ ভালোবাসেন, চেনেন, সেটাই বড় প্রাপ্তি।

May be an image of 2 people, people standing and indoor

 

প্রশ্ন- গুণী শিল্পী হয়েও লাইম লাইট পাননা অনেকেই, সেটার পিছনে কি কাজ করে বলে আপনার মনে হয়?

চন্দ্রিমা- যারা বহুদিন ধরে কাজ করছেন নিজের মত করে তারা ভালোবেসে করে চলেছেন কাজ। লাইমলাইটে আসতেই হবে সেরকম কথা মাথায় রাখলে কাজের প্রতি সততাটা চলে যায় হয়তো। তাই তারা লাইম লাইট নিয়ে অতটা ভাবিত নন। তবে এটা ঠিকই যে শুধুমাত্র প্রতিভা আজকাল লাইম লাইটে নিয়ে আসতে পারবে না। আনুষঙ্গিক আরো জিনিস প্রয়োজন। তবে এই গানের শেখার জায়গাটা একটা বড় সমুদ্র , সেই সমুদ্রের ধারে নুড়ি কুড়িয়ে থাকি আমরা। তাই নিজের পা মাটিতে রেখে চলা ভীষণ জরুরি। হঠাৎ করেই নিজেকে ভীষণ বড় ভাবতে শুরু করলে মুশকিল আছে। সেই মাটির পথ ধরে চললে অবশ্যই সম্মান আসবে। তবে মাঝে মধ্যে সম্মানের রূপে oiling ও আসে। সেগুলোর তফাৎ করতে শিখে নিতে হয় নিজেকেই।

 

May be an image of 1 person

প্রশ্ন- রিয়েলিটি শো তে এখন বিভিন্ন শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন, এই ধরনের অনুষ্ঠান সম্পর্কে আপনার কি মত?

চন্দ্রিমা- সংগীত তো একটা সাধনা। ওই কম সময়ের মধ্যে নিজেকে লাইম লাইট এ তুলে আনার চেষ্টায় কোথাও না কোথাও সেই সাধনাটা হারিয়ে যায় বোধহয়। ভালো performer আর ভালো Singer এর তফাৎ বোধহয় হয়ে যায় ওখানেই। অনেকেই খুব ভালো পারফর্মার হলেও খুব ভালো গায়ক বা গায়িকা নন। এই গুলিয়ে যাওয়াটা খুব কষ্টকর লাগে। তবে অবশ্যই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই ব্যাপারগুলোও চলেই আসছে। তবে আমি নিজে পার্সোনালি কম কাজ করি খুব সিরিয়াসলি কাজটাকে নিয়ে ভেবে সেটাকে পরিণতি দেব বলে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই দৌড় অনেক সময়েই খারাপ লাগে। পার্সোনালি তাই কোনোদিন আমি যাওয়ার চেষ্টা করিনি। আমার মনেও হয়নি যাওয়ার কথা।

 

May be an image of 8 people and people smiling

প্রশ্ন- রিয়েলিটি শো এর ফলাফল নিয়ে এখন তরজা চলছে মানুষের মধ্যে, এ নিয়ে যদি কিছু বলেন।

চন্দ্রিমা- কিছু মানুষের মুখ সবসময় আমরা দেখছি টিভির পর্দায়, তাদের গান শুনছি। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়ে যাচ্ছে। আমরা হয়তো বেছেও নিচ্ছি নিজেদের মতন করে। তাই হয়তো ঝামেলা। পছন্দের মানুষ না জেতার কষ্ট থেকেই এতসব। পিছনের খবর কি বা আদৌ কোন খবর আছে কিনা, ফলাফল rigged কিনা সেটা নিয়ে ভেবে বা কাউকে দোষ দিয়ে বোধহয় লাভ নেই।

May be an image of 1 person

প্রশ্ন- নিজের মতন করে কাজ করাটা কতখানি শক্ত?

চন্দ্রিমা- শক্ত তো বটেই। তবে ভেঙে পড়িনি কোনসময়ে। ভালো কাজ উপহার দিতে চেয়েছি শ্রোতাদের । যেটুকু যারা চেনেন তাদের ভালো লেগেছে বলেই মনে রেখেছেন আমাকে।নতুন ধরনের কাজ করি। পরবর্তী সময়ে আরো করবো। আরো অনেক মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা তো সবসময় থাকবেই। তবে ভালো কাজ নিয়ে কম্প্রোমাইজ কোনদিনই করবো না এটা একেবারে হৃদয় দিয়ে মানি।আশা করি শ্রোতারাও এই সততাকে ভালোবাসবেন।

Related Videos

Leave a Comment