Home Entertainment জীবনকে ছুঁয়ে দেখেছেন যিনি আকাশের মত…

জীবনকে ছুঁয়ে দেখেছেন যিনি আকাশের মত…

by admin

নিজের বাড়ির বাইরে এক্সময় ‘মানসিক হাসপাতাল’ লিখে রাখতেন এক গায়ক। একবার একমুখ পান নিয়ে গান গাইতে গাইতে স্টুডিওর মেঝেতেই পিক ফেলে দিলেন গায়ক। কেউ কিছু বলতে পারলো না গায়ককে। পরবর্তী সময়ে গান হয়ে গেল সুপারহিট। এখনও মাঝে মধ্যে সেই গান গুনগুন করে ওঠেন মানুষেরা। কি গান? ‘খাইকে পান বনারসওয়ালা’…

আরও পড়ুন জামাইয়ের বিয়েতে হাজির শাশুড়ি, মুহুর্তে ভাইরাল ছবি

চিরজীবন খামখেয়ালীর তকমা পেয়েছেন তিনি। কখন যে কি করে বসবেন কিচ্ছু ঠিক নেই তাঁর। যতক্ষণ না প্রযোজক পুরো টাকাটা দিতেন ততক্ষণ নিজের চুল ও গোঁফ ছাঁটতে থাকতেন তিনি। ছেলেবেলায় বেঞ্চে তবলা বাজাতেন। শিক্ষকরা বিরক্ত হলে তিনি উত্তর দিতেন বড় হলে গান গেয়েই পয়সা কামাতে চান তিনি। তাই এই অনুশীলন।

আরও পড়ুন জামাইয়ের বিয়েতে হাজির শাশুড়ি, মুহুর্তে ভাইরাল ছবি

ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করার পর ইনদওর ক্রিশ্চিয়ান কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন কিশোর। কলেজ জীবনে তামাশা-কৌতুকে পারদর্শী ছিলেন তিনি। কলেজ ক্যান্টিনে ধার করা পাঁচ টাকা বারো পয়সা শোধ করা হয়নি তাঁর। শুনে কিছু মনে পড়ছে? হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন। বিখ্যাত ‘ পাঁচ রুপাইয়া বারা আনা’ গানটির ভাবনা এসেছিল এখান থেকেই।

এত বড় একজন গায়ক মঞ্চে উঠতে ভয় পেতেন। খুব কাছের লোক ছাড়া কেউ জানতো না এই কথা। একবার প্লেব্যাক সিঙ্গার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ঠিক হল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করা হবে। সব গায়কদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তালাত মেহমুদের উপর ভার পড়লো কিশোরকে নিয়ে আসার। তিনি গিয়ে দেখেন কিশোর হাওয়া। অনেক পরে তাঁর এই ভীতি কাটিয়েছিলেন অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত।

আরও পড়ুন উন্মুক্ত প্রান্তরের বিবর্ণ ঘোড়ারা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কে এল সায়গল ও হলিউডের গায়ক তথা অভিনেতা ড্যানি ক্যায়ে-এর একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন কিশোর। তাঁর গৌরীকুঞ্জের বাড়িতে এই তিনজনের ছবি টাঙানো থাকত। প্রতিদিনের প্রণাম বরাদ্দ ছিল ওই তিন ছবির জন্য। অসম্ভব প্রকৃতি প্রেমিক ছিলেন। গাছদের আলাদা আলাদা নাম দিতেন তিনি।
কিন্তু ভালো কাজের প্রতি অসম্ভব শ্রদ্ধা ছিল তাঁর। সত্যজিৎ রায়ের ‘চারুলতা’ ছবিতে গানও গেয়েছিলেন বিনা পারিশ্রমিকে। জানা যায়, ‘চারুলতা’ তৈরির সময় হাতে বিশেষ পুঁজি ছিল না মিস্টার রায়ের। তখন তিনি গেয়েছিলেন বিনা পারিশ্রমিকে।

 

১৯৫৫ সালে তৈরি হওয়া পথের পাঁচালী যা এনে দেবে ভারতীয় সিনেমাকে অস্কার ,সেই সিনেমার পিছনেও অবদান ছিল প্রচুর কিশোরের। তখনকার সময়ে ৫০০০ টাকা দিয়ে উদ্ধার করলেন পরিচালককে। তারপরের ইতিহাস তো সকলেরই জানা।
আজও তাঁর গান শুনলে আমরা উদাস হই, নেচে উঠি, গুনগুন করি । গানগুলোর মধ্যে দিয়েই অমর থাকবেন তিনি। তার সঙ্গেই থেকে যাবে এইরকম কিছু অজানা গল্পও। যে গল্পে একজন খামখেয়ালী মানুষ আমাদের জানিয়ে যাবেন জীবন আসলেই বিরাট এক প্রাপ্তি, তাই বেঁচে থাকতে শিখতে হয় বিরাট করে।

Related Videos

Leave a Comment