Home যেসব কথা কানে আসে দেশ বিদেশে আয়না নিয়ে রয়েছে হাজার গল্প, বিশ্বাস

দেশ বিদেশে আয়না নিয়ে রয়েছে হাজার গল্প, বিশ্বাস

by admin

আয়না আমাদের নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখায়৷ কাব্যে সাহিত্যে তাই সুন্দর করে বলা হয় মনের আয়না৷ অর্থাৎ মনের মধ্যে যা আছে, তারই প্রকাশ হোক৷ ছোটবেলার রূপকথার গল্পে লেখা হত রাজকুমারী আয়না নিয়ে কেশসজ্জা করছিলেন বাগানে বসে৷ আচমকা সেই আয়নায় এক রাক্ষসীকে দেখা গেল কিংবা সুরূপা রাজকুমারী কুরূপা হয়ে গেল৷  আয়না নিয়ে রূপকথার কি আর শেষ আছে! এমনকি আয়না দেখেই নাকি  বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দেখার কাহিনীও বলা যায়।

বলতো আরশি  তুমি মুখটি দেখে, জনপ্রিয় গানও হয়েছে৷ অর্থাৎ আয়না জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ আয়না নিয়ে তাই নানারকম কথা আছে৷  আয়না হারানো বা আয়না ভেঙে ফেলা নিয়ে আছে নানা গল্প৷ বলা হয়, গোপন কিংবা অদেখা কোনো  থাকা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর অবস্থানও নাকি নিখুঁতভাবে বলে দিতে পারে জাদুর দর্পণ। কিন্তু জায়গা বিশেষে আয়নাকে ঘিরে রয়েছে নানা বিশ্বাস৷ কোথাও আয়না সৌভাগ্যের প্রতীক, কোথাও আবার আয়না বয়ে আনে দুর্ভাগ্য।

গ্রীসের উপকথা অনুযায়ী, প্রাচীন গ্রীসে ডাইনিরা আয়না ব্যবহার করত। খ্রিষ্টের জন্মের প্রায় ৩০০  বছর আগের এইসব কাহিনী।  ডাইনিরা নিজেদের দৈববাণী লিখে রাখত আয়নার মধ্যে৷

প্রাচীন রোমে আয়নার প্রচলন ছিল। সেখানে ধর্মগুরুরা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব কিছু বলে দিতেন৷  দর্পণ দেখে তারা বলতেন৷ দর্পণে তারা দেখতেন ব্যক্তির জীবন। সেখানেই প্রতিফলিত হত অজানা সব তথ্য৷

বর্তমানে আয়না তৈরিতে এলুমিনিয়ামের গুঁড়ো ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মিশরে প্রাচীন কালে আয়না তৈরিতে ব্যবহার করা হত তাম্র চূর্ণ। মিশরীয়রা বিশ্বাস করত তামার সাথে দেবী ‘হাথোর’ এর সম্পর্ক রয়েছে৷ হাথোর ছিলেন সৌন্দর্য, প্রেম, কাম, সমৃদ্ধি ও জাদুর দেবী। তাই তাম্র চূর্ণ জীবনে সৌন্দর্য, প্রেম ইত্যাদিকে আকর্ষণ করবে বলে ছিল তাদের বিশ্বাস৷

‘স্মোকিং মিরর’ আসলে তেজকাটলিপোকা’র মুখোশ। প্রাচীন অ্যাজটেকরা আয়না বানাত  অবসেডিয়ান দিয়ে৷ এই অবসেডিয়ান  মূলত কাচের মতন দেখতে একজাতীয় কালো আগ্নেয় শিলা। অ্যাজটেকদের বিশ্বাস, তারা ‘তেজকেটলিপোকা’র সঙ্গে  সম্পৃক্ত। সময় ও বংশ পরমপরায় পাওয়া স্মৃতির দেবতা এই তেজকাটলিপোকা। মনে করা হয়,
স্বর্গলোক থেকে এই পৃথিবীতে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে আয়নাই সেই মাধ্যম যা এই দেবতা ব্যবহার করতেন৷

প্রাচীন চীনে চাঁদের শক্তি ধরে রাখার জন্য আয়না ব্যবহার করা হত৷ কথিত আছে, চীনের এক সম্রাট জাদুকরী আয়নাতেই নিজের সাফল্য এর মন্ত্র পেয়েছিলেন৷ আজ থেকে প্রায় ২০০০ বছর আগে, ২৫ খ্রিষ্টাব্দে চীনের সম্রাট কিন শি হুয়াং এর দাবি ছিল,আয়নার দিকে তাকানোর পর  মানুষের মুখে তাকালেই তিনি মানুষ এর মনের ভেতর কি চলছে তাদের আসল চিন্তা-ভাবনা ও মনের খবর সব পড়তে পারতেন।

জার্মানদের স্নো হোয়াইট রূপকথায় একটি আয়নার কথা পাওয়া যায়৷ এই আয়না সবসময় সত্য কথা বলত। বাভারিয়া অঞ্চলের লোর এলাকার মানুষের বিশ্বাস, আয়না সর্বদা সত্য কথা বলে।

আয়না নিয়ে রয়েছে নানা সংস্কার৷ সু না কু তার বিচারে যাওয়া এক্ষেত্রে কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে তর্ক হতে পারে৷ বিশ্বাস,  আয়না ভেঙে ফেলা অত্যন্ত অশুভ। আয়না ভাঙলে আগামী সাত বছরের জন্য দু:খের দিন শুরু হয়।  প্রাচীন রোমের অধিবাসীদের বিশ্বাস,  মানুষের সাতটা জন্ম থাকে। কোনো জন্মে একটা আয়না ভেঙে ফেলে তবে আয়নার ভাঙা টুকরোগুলোর মধ্যে সেই ব্যক্তির আত্মা আটকা পড়ে যায়। তাই বারবার পুনর্জন্ম হয়৷ আত্মার মুক্তি হয় না৷
তবে, ভাঙা কাচের সকল টুকরো জড়ো করে যদি মাটির নিচে পুঁতে ফেলা যায়, বা খরস্রোতা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া যায়,  তবে নদীরস্রোত সেই দুর্ভাগ্য ভাসিয়ে নিয়ে যেত।

তবে আয়না ভেঙে ফেলাকে পাকিস্তানে সৌভাগ্য বা ইতিবাচক ঘটনার ইঙ্গিত বলেই মনে করা হয়। তাদের বিশ্বাস, আয়না ভেঙে গেলে একটা অশুভ শক্তি ঘর ছেড়ে যাচ্ছে।  এরপর শুভ কিছুর সূচনা হবে এটাই তাদের বিশ্বাস৷

বহু  অভিনেতা  আয়না নিয়ে কুসংস্কারে আচ্ছন্ন৷
কোনো অভিনেতা যখন আয়নার সামনে রেডি হচ্ছেন তখন, তার ঘাড়ের উপর দিয়ে যদি অন্য কেউ উঁকি দেয় তাহলে তা খারাপ কিছু বা মন্দ ভাগ্যের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।

ভিক্টোরিয়ান যুগে ব্রিটেনের লোকজন  বিশ্বাস করত, মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্যর সময়, সেই বাড়িতে থাকা সব আয়না পর্দা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
কারণ পর্দা দিয়ে আয়নাগুলো সব ঢেকে না দিলে মৃত ব্যক্তির আত্মা কোনো আয়নার ভেতরে ঢুকে মুক্ত হতে পারবে না৷ সেই বাড়িতেই আটকা পড়ে যেতে পারে।

Related Videos

Leave a Comment