Home Entertainment ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে থেকেও স্বপ্ন সত্যি করেছে এই মেয়ে

ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে থেকেও স্বপ্ন সত্যি করেছে এই মেয়ে

by admin

অনেকেই ছোটদের বলে থাকেন মন দিয়ে কাজ কর৷ অবশ্য ছোটদের কেন বড়দের ক্ষেত্রেও মন থেকে চাও, মন থেকে চেষ্টা করো ঠিক হবে৷ এগুলো তো শুনেছি আমরা বহুবার কিন্তু সত্যি কি হয়?  সকলের ক্ষেত্রে হয় কি না জানি না তবে আজ বলব এক সাধারণ মেয়ের কথা৷ যার স্বপ্ন হয়েছে সফল৷ বহু কষ্ট পেরিয়ে জীবনে সাফল্যের শীর্ষ ছুয়েছেন তাই আজও  শিকড়ের টান অটুট৷ নুন আনতে পান্তা ফুরোয় যে ঘরে সেখানে মেয়েকে ইস্কুলে পাঠানো বিলাসিতা করতে কেই বা চায়৷  কিন্তু সেই সাধারণ  মেয়ের শিল্পগুণমুগ্ধ আজ সমগ্র বিশ্ব৷

নাম তার শাকিলা৷ বছরখানেক বয়েস, বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পেটের দায়ে মা রোজ কলকাতার তালতলা বাজারে আসতেন সব্জি বিক্রি করতে। মার সঙ্গে শহরের পথে পথে ঘুরতেন শাকিলা।  মায়ের কাছ থেকে সব্জি কিনতেন শিল্পী সমাজসেবক বলদেব বাবু। পথশিশুরা তাঁকে ভালোবেসে  “ডিমবাবু”, বলে ডাকতো। এই ডিমবাবুই  কলকাতার একটি স্কুলে ভর্তি করলেন শাকিলাকে৷ কিন্তু এক্ষেত্রেও বিধি বাম। মাত্র ১২-বছর বয়সেই শাকিলার বিয়ে হল, পনেরো বছরের বড় পূর্ব বিবাহিত আকবরের সঙ্গে।

সাংসারিক অভাব দূর করতে শাকিলা তার ছোটবেলার ডিমবাবুর পরামর্শে  ঠোঙা বানাতে শুরু করলেন৷ ক্রমেই বলদেব বাবু ডিমবাবু থেকে হয়ে উঠলেন বাবা৷একবার আপত্তি উপেক্ষা করেই বাবা শাকিলাকে একটি প্রদর্শনী দেখাতে নিয়ে গেল৷ তারপরেই সেই ম্যাজিক মোমেন্ট৷প্রদর্শনী থেকে ফিরে কার্ডবোর্ড এবং রঙিন পেপার নিয়ে  শুরু শাকিলার রূপকথা৷জীবনের চেনা বিষয়বস্তুকে ফুটিয়ে তুললেন তার কাজে৷ কোথাও আদ্যাশক্তি মহামায়ার রুদ্র মূর্তি আবার কোথাও কর্মব্যস্ত  মা দুমুঠো  অন্ন জোগাতে খেটে চলেছেন দিনভোর। নিজের প্রথম প্রদর্শনী করলেন শাকিলা ১৯৯০ তে৷  অভাবের সংসারে প্রথম তাঁর ৭০,০০০ টাকা উপার্জন। এরপর শুধু দেশ নয়, আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপীয় দেশগুলিতেও তাঁর সৃষ্টি সমাদৃত হয়েছে। আর এখন শাকিলার শিল্পকর্মের আর্থিক হিসেব রাখতে কাজ করে একটি বিশেষ টিম। কিন্তু এখনও সেই মাটির মেয়ে শাকিলা৷  যে মাটিতে শুয়ে কেটেছে ছোটোবেলা, সেই মাটিতেই পা দুটি রেখে  বিশ্বদরবারের পথে হাঁটেন শাকিলা।

Related Videos

Leave a Comment